বর্তমানে আধুনিক ভবনের অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে লিফট বা এলিভেটর। সুউচ্চ ভবন এখন যেন লিফট ছাড়া আর কল্পনাই করা যায় না। আবার সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিন-চারতলার ভবনেও এখন লিফট ব্যবহার করা হয়। এভাবেই দেশে লিফটের ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। তাতে বড় হচ্ছে লিফটের বাজারও।
এদিকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির লিফট ও এস্কেলেটর নিয়ে ঢাকায় প্রদর্শনী চলছে। কুড়িলের আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) তিনদিন ব্যাপী এই প্রর্দশনী বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) শুরু হয়েছে। চলবে শনিবার (১২ অক্টোবর)পর্যন্ত।
দেশে আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনার সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক ভবনগুলোতে লিফট এখন একটি অপরিহার্য অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। উৎপাদক ও আমদানিকারকদের মতে, দেশে লিফটের বাজার এখন বছরে ১৫০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যেটি প্রতি বছর লিফট ব্যবহার বৃদ্ধির প্রতিফলন।
তবে দেশের লিফটের বাজারের ৭০ শতাংশ এখনো আমদানির ওপর নির্ভরশীল বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও আয়োজকরা। গতকাল (১০ অক্টোবর) রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হওয়া দুটি লিফট ও এসকেলেটর প্রদর্শনীতে স্থানীয় ও বিদেশি উৎপাদক এবং বিপণনকারীরা অংশগ্রহণ করেছেন।
দুটি প্রদর্শনীর মধ্যে একটি হলো “গ্লোবাল এলিভেটর অ্যান্ড এসকেলেটর এক্সপো ২০২৪”, যেটির আয়োজন করেছে ভারতের ভার্গো কমিউনিকেশনস অ্যান্ড এক্সিবিশন প্রাইভেট লিমিটেড। আর অন্যটি “ইন্টারন্যাশনাল বেলিয়া এলিভেটর এক্সপো ২০২৪”, যেটি আয়োজন করেছে বাংলাদেশের এলিভেটর এসকেলেটর অ্যান্ড লিফট ইম্পোর্টার অ্যাসোসিয়েশন (বিইইএলআইএ)। প্রদর্শনীগুলো আগামী শনিবার শেষ হবে।
আন্তর্জাতিক এ প্রদর্শনী ঘুরে ও আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চীন, জাপান, ইতালি, তুরস্ক, ফিনল্যান্ড, ভারত ও স্পেনসহ প্রায় ১৫০টি দেশীয় ও বিদেশি প্রতিষ্ঠান তাদের এসকেলেটর, লিফট এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা সরঞ্জাম প্রদর্শন করছে। বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ডিলার ও পরিবেশকদের মাধ্যমে অংশ নিয়েছে।
সিগমা লিফট কোম্পানি লিমিটেডের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর হাজী মো: আমিনুল ইসলাম বলেন, দেশে লিফটের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এদিকে বাইরের থেকে আমদানির পাশাপাশি দেশেও একাধিক বড় কোম্পানি ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী বাংলাদেশে লিফট বা এলিভেটর তৈরি করছে। কিন্তু অত্যাধিক চাহিদা থাকার কারনে বাইরের থেকে লিফট আমদানি করতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে সিগমা, ওটিস, হুন্দাই, এলজি এসব ব্র্যান্ডের চাহিদা বেশ লক্ষ করা যাচ্ছে।
ভার্গো কমিউনিকেশন অ্যান্ড এক্সিবিশনের পরিচালক অনিতা রঘুনাথ বলেন, “প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় ৬ হাজার থেকে সাড়ে ৬ হাজার লিফট বিক্রি হয়। দেশের বার্ষিক বাজারের আকার ১৫০০ কোটি টাকার বেশি এবং চাহিদা প্রতি বছর ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।”
তিনি উল্লেখ করেন, লিফট এখন একটি অপরিহার্য পণ্য হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, “২০২৩ সালে ভারতের লিফটের বাজারের আকার ৪.২৯ বিলিয়ন ডলার মূল্যায়িত হয়েছে এবং ২০২৪ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে এটি বার্ষিক ৮.৯ শতাংশ যৌগিক বৃদ্ধির হারে (সিএজিআর) বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৭.৭৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে।”
বাংলাদেশ এলিভেটর এসকেলেটর অ্যান্ড লিফট ইম্পোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শফিউল আলম উজ্জ্বল জানান, বর্তমানে তাদের অ্যাসোসিয়েশনে ৯১ জন সদস্য রয়েছে। আমরা অনেক বছর ধরে বিদেশি বিশ্ববিখ্যাত ফুজি ইন্টারন্যাশনাল, সিগমা, হিডোস, কনে, হ্যান্ডক ইত্যাদি ব্র্যান্ডের লিফট ও এসকেলেটর আমদানি করি।
তিনি স্থানীয় লিফট কারখানাগুলোর জন্য সরকারি নীতিমালা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যা বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হবে।
বাংলাদেশ এলিভেটর এসকেলেটর অ্যান্ড লিফট ইম্পোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুসারে, বর্তমানে দেশে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০টি প্রতিষ্ঠান লিফট বিক্রি করছে।
দেশে মোটামুটি ১০-১৫ লাখ টাকা থেকে কোটি টাকার মধ্যে লিফট কিনতে পাওয়া যায়। তবে মানভেদে দামও ভিন্ন ভিন্ন হয়। যেমন ১০ তলা ভবনের জন্য ওয়ালটনের ৬৩০ কেজি ওজনক্ষমতার একটি লিফটের দাম ২৫-২৬ লাখ টাকা। দেশে উৎপাদিত লিফটের দাম আমদানি করা লিফটের তুলনায় ৩-৪ লাখ টাকা কম।
তবে স্থানীয় অনেক কোম্পানি যথাযথ মান নিশ্চিত না করে লিফট তৈরি ও সরবরাহ করছে বলে জানান খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ভবনের বাসিন্দাদের ওঠানামার জন্য ব্যবহৃত লিফটের ফিটনেস বা নিরাপত্তাব্যবস্থা কেমন হবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর তেমন তদারকিও দেখা যায় না।