আসন্ন জাতীয় বাজেট ২০২৬–২০২৭ সামনে রেখে লিফট খাতে প্রণোদনা, কর বৈষম্য হ্রাস এবং নীতিগত স্থিতিশীলতার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। “জাতীয় বাজেট ২০২৬–২০২৭: ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা” শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (IBWF)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ বৈঠকে দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও নীতিনির্ধারকরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ। তিনি বলেন, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বাস্তবমুখী ও ব্যবসাবান্ধব বাজেট প্রণয়ন অপরিহার্য।
গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন IBWF-এর সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ এলিভেটর, এস্কেলেটরস অ্যান্ড লিফট ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বেলিয়া)-এর সভাপতি মো. শফিউল আলম উজ্জ্বল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) প্রতি লিফট খাত সংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেন।
প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ছিল—লিফটকে পুনরায় অত্যাবশ্যকীয় মূলধনী যন্ত্রপাতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা, লোড ফ্যাক্টরের প্রতি কেজির হার ৩ ডলার থেকে কমিয়ে ১.৫০ ডলার নির্ধারণ, স্থানীয় উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামালের ঘোষণায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বাজারে কর বৈষম্য হ্রাস করা।
এছাড়াও বন্দর পর্যায়ে ক্লিয়ারিং প্রক্রিয়া সহজীকরণ, তথাকথিত “ব্রিফকেস কোম্পানি”গুলোকে করের আওতায় আনা এবং আমদানি কর কাঠামো প্রতি বছর পরিবর্তনের পরিবর্তে পাঁচ বছর অন্তর পর্যালোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, লিফট খাত দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। এ খাতে সঠিক নীতিমালা ও প্রণোদনা থাকলে দেশীয় শিল্প বিকাশের পাশাপাশি বিনিয়োগও বাড়বে।
পরিশেষে বেলিয়া সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে লিফট খাতের বিকল্প উন্নয়ন কৌশল নির্ধারণ, সেফটি ও স্ট্যান্ডার্ড নীতিমালা প্রণয়ন এবং একটি কার্যকর নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক এনবিআর সদস্য মো. নাসির উদ্দীন, রিহ্যাব-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক, এফবিসিসিআই সংস্কার পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান, বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির সেক্রেটারি জেনারেল হালিমুজ্জামান, বিকেএমইএ ও বিজিএমইএ’র প্রতিনিধিরাসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।