বুধবার, ২২ মে ২০২৪ । ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

যে চার কারণে পুঁজিবাজারে ভরাডুবি হতে পারে

অনলাইন ডেস্ক »

জিবাজারে লাভও আছ, ক্ষতিও আছে। বাস্তব এই দুই বিষয় মাথায় রেখে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে হবে। তবে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, তুলনামূলক কম সময়ে অধিক লাভ করা। জেনে অবাক হবেন, মাত্র ২০ শতাংশ বিনিয়োগকারী পুঁজিবাজার থেকে প্রফিট ঘরে তুলতে পারে। বাকী ৮০ শতাংশ বিনিয়োগকারীই লসের সম্মুখীন হন। এই ৮০ শতাংশ বিনিয়োগকারী যে সব সময় লস করে তা কিন্তু নয়, তারাও প্রফিট করে। তবে নানা কারণে সেই প্রফিট ঘরে তুলতে পারেন না।

পুঁজিবাজার থেকে প্রফিট তুলতে হবে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। আজকের প্রবন্ধে যে ৪টি কারণে প্রধানত পুঁজিবাজারে আপনার ভরাডুবি হতে পারে, তা তুলে ধরার ইচ্ছা প্রকাশ করছি।

১। দরকারি টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা:

সাধারণত আমরা নিত্য প্রয়োজনে যেই টাকা ব্যবহার করি, তাই দরকারি টাকা। ধরুন, আপনার হাতে এখন ২০ হাজার টাকা আছে, যা আপতত সামনের ৫/৭ দিন আপনার লাগবে না। তো এখন আপনি চিন্তা করলেন এই ৫/৭ দিন টাকাটা অলস না রেখে শেয়ার কিনে কিছু টাকা প্রফিট করে নেই।

এটি আপনার জন্য একটি মহা ভুল সিদ্ধান্ত হতে পারে। কেননা এই ৫/৭ দিনে ২/৩ হাজার টাকা শেয়ারের দাম কমেও যেতে পারে।

এর ফলে আপনি যখন দরকারের সময় টাকাটা তুলবেন তখন লসের সমুক্ষীন হবেন।

তাই আপনার হাতে থাকা অলস টাকাই দীর্ঘ সময়ের জন্য পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে হবে। সাময়িকভাবে থাক টাকা বিনিয়োগ করা যাবে না।

২। জেড ক্যাটাগরির শেয়ারে সব টাকা বিনিয়োগ করা:

যেসব কোম্পানী এজিএম ও ডিভিডেন্ড ঘোষণা করতে ব্যর্থ হয়েছে অথবা ছয় মাসের বেশি সময় ধরে ব্যবসয়িক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে, সেসব ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ারে কখনই বিনিয়োগ করবেন না। যদি ভালো খবরে করেনও, আংশিক টাকা সাবধানে বিনিয়োগ করতে হবে।

যদি খবর পান যে ‘জেড’ ক্যাটাগরি থেকে কোম্পানিটি বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বা ভালো পারফরমেন্সের কারণে কোম্পানিটির ক্যাটাগরি পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাহলে কিছু টাকা বিনিয়োগ করতে পারেন।

৩। সব টাকা এক সাথে বিনিয়োগ করা:

একজন সফল বিনিয়োগকারী বিনিয়োগের আগে, কত টাকা বিনিয়োগ করতে চায় তা নিশ্চিত হন। এর পর সেই টাকা ৩/৪ ক্যাটাগরির শেয়ার ক্রমান্বয়ে বিনিয়োগ করেন। এতে রিস্ক বা ঝুঁকি অনেকটা কমে যায়। মনে রাখবেন – ‘সব ডিম এক ঝুড়িতে রাখা যাবে না’। আর বিনিয়োগের আগে কোম্পানিটির শেয়ারের ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিসগুলো দেখে নেবেন। যেমন- শেয়ারটির পিই রেশিও কেমন, নেট সম্পদ মূল্য কেমন, গত কয়েক বছরের ডিভিডেন্ড রেকর্ড কেমন, ক্যাশ ফ্লো কেমন, রিজার্ব কেমন ইত্যাদি।

৪। ঋণ করে শেয়ার কেনা:

পুঁজিবাজার এমনিতেই ঝুঁকির জায়গা। এখানে লাভও বেশি হয়। আবার ঝুঁকিও অনেক বেশি। তারপর যদি আপনি ঋণ করে শেয়ার কেনেন, তাহলে আপনি অতিরিক্ত ঝুঁকির মুখে পড়ে যাচ্ছেন। কারণ আপনাকে একদিকে ঋণের সুদ দিতে হবে, আবার লাভও করতে হবে। তাই কোন অবস্থাতেই ঋণ করে শেয়ার কিনবেন না।

আপনার মন্তব্যটি লিখুন
শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »